বিড়ালের লোম কেন পড়ে এবং এর প্রতিকার কি?

সব বিড়ালেরই কম বেশি লোম পড়ে থাকে। যেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু চিন্তার বিষয় তখনই হয় যখন তা অতিরিক্ত পরিমাণের পড়ে সে সাথে অন্যের বিরক্তির কারণ হয়। একই সাথে দেশী জাতের বিড়ালের তুলনায় পার্সিয়ান জাতের বিড়ালগুলোর বেশীই লোম পরে।

লোম পরার কারণসমূহ:-
👉 প্রতিদিন ওদের পুরোনো লোম এমনিতেই পড়ে এবং নতুন লোম গজায়।
👉 আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে-
গরমের শুরুতে ওদের প্রচুর লোম পড়ে। কারণ শীতের সময় ওদের দেহের তাপমাত্রা ধরে রাখতে প্রচুর লোম দরকার ছিলো তাই সে সময় লোম গজিয়েছে। কিন্তু শীত চলে যাওয়ায় বাড়তি লোমের আর দরকার পরে না তাই সেগুলো ঝরে যায়। এইভাবে ওরা ওদের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে।
👉 অতিরিক্ত গ্রুমিং করালে লোমের গোড়া নরম হয়ে যায়। বিড়ালদের জন্য গ্রুমিং অবশ্যই ভালো কিন্তু সেটা অতিরিক্ত হলে ভালো না।
👉 শরীরে ফ্লী থাকলে ওরা শরীর চাটতে থাকে যার জন্য লোম উঠে।
👉 তেল- চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ালে।
👉 অপুষ্টি তে ভুগলে, ভিটামিন, মিনারেলের অভাব থাকলে
👉 বিশেষ কারণে কোনো ওষুধ খাওয়ালে বা ওষুধের অভারডোজ দিলে সেটার জন্যও লোম পরে।
👉 🛑🛑 ফাংগাল ইনফেকশন এর কারণে। যদিও সে কারণে পুরা শরীর থেকে না বরং কিছু নির্দিষ্ট স্থান থেকে লোম পড়তে থাকে। সেটা নিয়ে পরবর্তী পোস্টে বলা হবে 🛑🛑

✳️ যদি স্বাভাবিকভাবেই লোম পড়তে থাকে তাহলে কী সেটা সমস্যার কিছু হবে?
— হা , যে সব বিড়াল অতিরিক্ত পরিষ্কার তারা সারাক্ষণ লোম চাঁটতে থাকে। সেটা পরে হেয়ার বল ফর্ম করে। সেটা নিয়েও পরবর্তীতে বলা হবে।

📍📍লোম পড়া থেকে প্রতিকার:-
👉 উপরোক্ত কোন কারণের জন্য লোম পড়ছে সেটা বের করে সে জিনিসগুলো পরিহার করা।
👉 প্রতিদিনই ওদের কিছু লোম পড়বেই। তাই আঁচড়ানোর জন্য যে বিশেষ গ্রুমিং কম্ব পাওয়া যায় সেগুলো নিয়ে প্রতিদিন বা একদিন পর পর আঁচড়াতে হবে। এতে হেয়ার বল ফর্ম করার সম্ভাবনাও কম থাকে।
👉। শরীর থেকে ফ্লি ডাস্ট সরানোর জন্য যে বিশেষ স্প্রে রয়েছে সেটা ব্যবহার করতে হবে
👉 তেল- চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে।
👉 মুরগীর কলিজা খাওয়ানো ভালো কিন্ত সেটা অতিরিক্ত খাওয়ানো যাবে না। এটা দেহের ডিটক্সিফিকেশন অর্গান। অনেক হেভি মেটাল জমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এতে।
👉 গরমের সময় তোয়াল ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন এতে ভাঙ্গা লোম তোয়ালে চলে আসবে।
👉 গরমের শুরুতে পার্সিয়ান জাতের বিড়াল হলে লোম কেটে ছোটো করে দিন।
👉 এর পরেও লোম পরতে থাকলে ভেটের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরী।

লিখেছেন: ফাইসা মুসাররাত

Leave a Reply

Your email address will not be published.

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop